প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম,
মুহতারাম মুফতি সাহেব হুজুর, আমি চল্লিশ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করেছিলাম যে টাকাটা হারাম ভাবে উপার্জন করেছিলাম। সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা করে আমি বর্তমান দশ লক্ষ টাকার মালিক। এখন আমার জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এই সমস্ত টাকাটা কি হারাম হবে? এখন আমার করনীয়? বিস্তারিত জানিয়ে উপকৃত করবেন ।
মোঃ আবু সাঈদ
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনার নিকট হারামভাবে অর্জিত যে ৪০,০০০ টাকা রয়েছে, তা তার প্রকৃত মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া আপনার জন্য একান্ত জরুরি।
যদি মালিককে পাওয়া না যায় অথবা তিনি মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তাহলে তার ওয়ারিশদের নিকট পৌঁছে দিতে হবে।
আর যদি ওয়ারিশদেরও সন্ধান জানা না থাকে, তবে মালিকের পক্ষ থেকে সওয়াবের নিয়তে গরিব-অসহায় লোকদের মাঝে দান করে দিতে হবে।
হ্যাঁ, যদি হারাম টাকাটি কোনো হারাম চাকরি বা ব্যাংকের সুদের মাধ্যমে অর্জিত হয়ে থাকে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যাংকে ফেরত না দিয়ে সওয়াবের নিয়ত ছাড়াই সদকা করে দিতে হবে।
হারাম টাকাটি তার প্রকৃত মালিকের নিকট পৌঁছে দেওয়ার পর, ওই টাকায় আপনি এতদিন হালাল ব্যবসা করে যে টাকা লাভ করেছেন, সেই লাভ আপনার জন্য বৈধ (হালাল) হবে।
আর এতদিন হারাম টাকায় লেনদেন করার জন্য খাঁটি মনে তাওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সতর্ক থাকতে হবে, যেন এ ধরনের কোনো হারাম লেনদেন আর আপনার দ্বারা সংঘটিত না হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
এই বিধানটি তাদের জন্য, যারা না জেনে বা না বুঝে অন্যের বা হারাম সম্পদ দিয়ে ব্যবসা করে ফেলেছে এবং সেখান থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছে।
কিন্তু জেনে-বুঝে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে তা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে লাভবান হয়ে পরে টাকা ফেরত দেবে—এমন কাজ কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়।
সূত্র
الفقه الإسلامي وأدلته ١٠/ ٧٩٤٥
الاختيار لتعليل المختار ٣/ ٦١ ، ٢٣٥
رد المحتار ٥/ ٩٩
الفتاوى الهندية ٥/ ١٤١–١٤٢
فتح القدير ٩/ ٣٢٨
فتاوى محمودیہ ١٨/ ٤٠٨
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
মুজাহিদুল ইসলাম
উস্তাজুল ইফতা– আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাংলাদেশ।